অবৈধ মোবাইল ফোন রোধে টেলিযোগাযোগ আইনে থাকবে সুরক্ষাকবচ : পলক
মোবাইল ফোন বাজারের নৈরাজ্য নিয়ে এমটব ও এমআইওবি’র সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করে শুল্ক দিয়ে দেশে প্রবেশ করা মোবাইলফোন বিটিআরসি’র কাছে সংরক্ষণের মাধ্যমে ফোনের হোয়াইট লিস্টিং করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একইসঙ্গে এই খাতের অবৈধ মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট ব্যাবহারকারীদের প্রতিরোধ করতে টেলিযোগাযোগ আইনে সুরক্ষাকবচ থকাবে বলেও কথাও বলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ের টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদনে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমনটাই বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। দেশের টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) আয়োজনে এই সেমিনারে মোবাইল অপারেটরদের বাণিজ্যিক সংগঠন এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) পক্ষে রবি আজিয়েটার চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মোহাম্মাদ শাহেদুল আলম এবং দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারক কারখানাগুলোর নতুন সংগঠন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সহসভাপতি রেজওয়ানুল হক দুইটি উপস্থাপনায় দেশের মোবাইল বাজারের নানা চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।
এই উপস্থাপনার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে নিয়মিত বাজার নজরদারিকে কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে একটি প্রস্তাবনা দেয়া সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন পলক। এজন্য টিআরএনবি, এমটব ও এমআইওবিকে একটি প্রস্তাবনা তৈরির পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ফোন এক্সপোর্টের উপর সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভস দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুত স্মার্টফোন পেনিট্রেশন এবং ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন বাড়াতে চাই।
পলক আরো বলেছেন, অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণের জন্য আমার অনুরোধ থাকবে আমাদের হ্যান্ডসেটের রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম এবং কাস্টমসের ট্যাক্স পেইড ইম্পোর্টেড মোবাইল ফোনের ডাটাবেজ যেন বিটিআরসির কাছে সংরক্ষিত থাকে যাতে আমাদের ল'এনফোর্সিং এজেন্সি, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি যখনই অভিযানে যাবে তখনই রিয়েল-টাইম ভেরিফাই করা সম্ভব হয়। টেলিযোগাযোগ আইনের মাধ্যমে অবৈধ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহারকারীদের প্রতিরোধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নাগরিকদের তথ্য-উপাত্তের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবেলার জন্য তাদেরকে মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের জন্য উৎসাহিত করা হবে। একইসঙ্গে বিদেশে থেকে কেউ যদি কোনো ফোন উপহার নিয়ে আসেন সেটাও যেন নিবন্ধন করা হয়। তা না হলে এনবিআরকে অনুরোধ করবো ডেটাবেজ দেখে যারা ১-২ লাখ টাকার হাইএন্ডের ফোন ব্যবহার করেন তাদের ট্র্যাক করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।
নিয়মিত বাজার নজরদারি ও অভিযান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে পলক বলেন, আমরা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের পরিবর্তে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন করছি। আমরা নিয়ন্ত্রণের থেকে টেলিযোগাযোগের সম্প্রসারণের দিকে নজর দিচ্ছি যাতে, কর্মসংস্থানের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মানে গভর্নমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাকাডেমিয়া এবং মিডিয়া পার্টনারশিপ প্রয়োজন। এটা তৈরি হয়েছে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ পেয়েছি। এটাকে আরও ব্যবসায় বান্ধব, আন্তরিক, ও বিশ্বাসযোগ্য পর্যায়ে নেওয়ার মাধ্যমে আমরা ২০৪১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হবো। সেক্ষেত্রে আমাদের টেলিকম ও মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি বলেন প্রতিবছর বাংলাদেশে আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের চাহিদা রয়েছে। ২০২২ সালে আমরা ৩ কোটি মোবাইল ফোন দেশের মাটিতে সংযোজন করতে পেরেছিলাম। ২০২৩-২৪ সালে সেই উৎপাদনের সংখ্যা কমে গেলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের তথ্য অনুসারে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেনি।
টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদীর সঞ্চালনায় সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ, ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ জুলফিকার (অব.), এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শাহিদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।







